আমাদের দেশে চাষাবাদের জন্য ইউরিয়া সার অপরিহার্য, কিন্তু সাধারণ ইউরিয়া সারের অনেকটা অংশই অপচয় হয় এবং পরিবেশের ক্ষতি করে। এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক তৈরি করেছেন পরিবেশবান্ধব ‘বায়োচার সমৃদ্ধ ন্যানো-ইউরিয়া’। সম্প্রতি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) এই সারের মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষায় চমৎকার সাফল্য পাওয়া গেছে।
কেন এই ন্যানো-ইউরিয়া বিশেষ?
সাধারণ ইউরিয়া সারের তুলনায় ন্যানো-ইউরিয়া অনেক বেশি কার্যকর। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
- কম খরচ: সাধারণ সারের চেয়ে ২০-২৫ শতাংশ কম সার ব্যবহার করেও ধানের ফলন সমান বা তার চেয়ে বেশি পাওয়া সম্ভব।
- একবার দিলেই চলে: সাধারণ ইউরিয়া যেখানে তিনবার ছিটাতে হয়, ন্যানো-ইউরিয়া মাত্র একবার দিলেই কাজ হয়। এতে কৃষকের শ্রম ও সময় বাঁচে।
- পরিবেশ রক্ষা: এই সার ব্যবহারে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমে এবং মাটির উর্বরতা বাড়ে।
- বেশি ফলন: পরীক্ষায় দেখা গেছে, এতে ধানের ফলন ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
— অধ্যাপক ড. আহমেদ খায়রুল হাসান বাদল
গবেষকদের মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ব্রি’র বিজ্ঞানীরাও এই প্রযুক্তির প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, এটি মাটির গুণাগুণ বজায় রাখার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশকে নির্মল রাখতে সাহায্য করবে। প্রাথমিক পরীক্ষায় গবেষকরা সফল হওয়ার পর এখন এটি বড় পরিসরে উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে।
আশা করা হচ্ছে, আগামী মৌসুম থেকেই বাংলাদেশের ধান চাষে এই সাশ্রয়ী প্রযুক্তি একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে। বাকৃবির এই নতুন আবিষ্কার কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে পকেটে বেশি টাকা রাখতে এবং একই সাথে আমাদের পরিবেশকে বাঁচাতে সাহায্য করবে।