ফিরে যান
Haor Paddy Field

হাওরে বন্যার আগেই ধান ঘরে তোলার উপায়: বাকৃবি গবেষকদের নতুন সাফল্য

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় প্রতিবছর আগাম বন্যায় কৃষকদের ধান তলিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক দীর্ঘ গবেষণার পর এক সুখবর দিয়েছেন। তারা বলছেন, হাওরে প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি ধানের বদলে স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত চাষ করলে বন্যার পানি আসার ১৫-২০ দিন আগেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।

কেন এই উদ্যোগ?

গবেষকদের পরামর্শ ও ধানের জাত

প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক জানান, বর্তমানে হাওরে চাষ হওয়া ব্রি ধান-৯২ পাকতে প্রায় ১৬০ দিন সময় লাগে, যা কাটতে বৈশাখ মাস পার হয়ে যায়। এর সমাধান হিসেবে তিনি নির্দিষ্ট কিছু জাতের কথা উল্লেখ করেন:

"ব্রি ধান-৮৮, ব্রি ধান-১০১, ব্রি ধান-১১৩, ব্রি ধান-১০৫ ও ব্রি ধান-২৫ এর মতো স্বল্পমেয়াদি জাতগুলো চাষ করলে মাত্র ১৪৫ দিনেই ফসল তোলা যায়। ১০ জানুয়ারির মধ্যে চারা রোপণ করতে পারলে এপ্রিলের প্রথমার্ধেই ধান কেটে ফেলা সম্ভব।"

সাফল্যের উদাহরণ ও যান্ত্রিকীকরণ

গবেষকরা ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ, অষ্টগ্রাম ও ইটনায় এই স্বল্পমেয়াদি ধান চাষ করে সফল হয়েছেন। দেখা গেছে, প্রচলিত ধানগুলো যখন মাঠে কাঁচা অবস্থায় ছিল, তখন স্বল্পমেয়াদি জাতগুলো এপ্রিলের ৮ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যেই কাটা সম্ভব হয়েছে।

তবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ফলনের সামান্য তারতম্য। কৃষকরা সাধারণত বেশি ফলন দেয় এমন দীর্ঘমেয়াদি ধান চাষ করতে চান। স্বল্পমেয়াদি ধানে ফলন সামান্য কম হলেও এটি বন্যার হাত থেকে শতভাগ সুরক্ষিত থাকে। এছাড়া দ্রুত ধান কাটার জন্য রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ও কম্বাইন হার্ভেস্টারের মতো যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন গবেষকরা।

সহজ কথায়, হাওরের কৃষকরা যদি একটু বুদ্ধি করে ব্রি-৮৮ বা ব্রি-১০০ এর মতো অল্প সময়ের জাতগুলো সঠিক সময়ে চাষ করেন, তবে তাদের সারা বছরের কষ্ট আর চোখের সামনে বন্যায় ভেসে যাবে না।