বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় প্রতিবছর আগাম বন্যায় কৃষকদের ধান তলিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক দীর্ঘ গবেষণার পর এক সুখবর দিয়েছেন। তারা বলছেন, হাওরে প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি ধানের বদলে স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত চাষ করলে বন্যার পানি আসার ১৫-২০ দিন আগেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।
কেন এই উদ্যোগ?
- বন্যার ঝুঁকি: হাওরে সাধারণত এপ্রিলের শেষে বা মে মাসে হঠাৎ বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। প্রচলিত ধানগুলো পাকতে মে মাস লেগে যায়, যার ফলে পাকা ধান অনেক সময় পানির নিচে তলিয়ে যায়।
- পরিসংখ্যান: গত ৩৬ বছরের তথ্য অনুযায়ী, হাওরে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি মে মাসে প্রায় ৫০% এবং এপ্রিলের শেষ দিকে ৪২%। তাই এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ধান কাটতে পারলে ফসল নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না।
গবেষকদের পরামর্শ ও ধানের জাত
প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক জানান, বর্তমানে হাওরে চাষ হওয়া ব্রি ধান-৯২ পাকতে প্রায় ১৬০ দিন সময় লাগে, যা কাটতে বৈশাখ মাস পার হয়ে যায়। এর সমাধান হিসেবে তিনি নির্দিষ্ট কিছু জাতের কথা উল্লেখ করেন:
সাফল্যের উদাহরণ ও যান্ত্রিকীকরণ
গবেষকরা ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ, অষ্টগ্রাম ও ইটনায় এই স্বল্পমেয়াদি ধান চাষ করে সফল হয়েছেন। দেখা গেছে, প্রচলিত ধানগুলো যখন মাঠে কাঁচা অবস্থায় ছিল, তখন স্বল্পমেয়াদি জাতগুলো এপ্রিলের ৮ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যেই কাটা সম্ভব হয়েছে।
তবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ফলনের সামান্য তারতম্য। কৃষকরা সাধারণত বেশি ফলন দেয় এমন দীর্ঘমেয়াদি ধান চাষ করতে চান। স্বল্পমেয়াদি ধানে ফলন সামান্য কম হলেও এটি বন্যার হাত থেকে শতভাগ সুরক্ষিত থাকে। এছাড়া দ্রুত ধান কাটার জন্য রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ও কম্বাইন হার্ভেস্টারের মতো যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন গবেষকরা।
সহজ কথায়, হাওরের কৃষকরা যদি একটু বুদ্ধি করে ব্রি-৮৮ বা ব্রি-১০০ এর মতো অল্প সময়ের জাতগুলো সঠিক সময়ে চাষ করেন, তবে তাদের সারা বছরের কষ্ট আর চোখের সামনে বন্যায় ভেসে যাবে না।