মাছ, ফল ও সবজি পচে যাওয়া রোধ করতে এবং এগুলোকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে শুকিয়ে সংরক্ষণ করার জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা তৈরি করেছেন এক অভাবনীয় প্রযুক্তি— ‘বিএইউ-এডিআই হাইব্রিড ড্রায়ার’। গত শনিবার এক কর্মশালার মাধ্যমে এই প্রযুক্তির নানা দিক তুলে ধরা হয়।
কেন এই ড্রায়ারটি বিশেষ?
সাধারণত রোদে মাছ বা সবজি শুকাতে দিলে ধুলোবালি বা পোকামাকড় পড়ে এবং পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়। কিন্তু এই হাইব্রিড ড্রায়ারের প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
- স্মার্ট প্রযুক্তি: এটি সৌরশক্তি ও বিদ্যুৎ—উভয় পদ্ধতিতেই চলে। দিনে রোদে আর রাতে বা বৃষ্টির দিনে বিদ্যুতে এটি সচল থাকে।
- পুষ্টিগুণ বজায় রাখা: খোলা জায়গায় শুকানোর চেয়ে এতে শুকানো খাবারের পুষ্টিগুণ ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত ঠিক থাকে।
- স্মার্ট কন্ট্রোল: মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই এর তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
- নিরাপদ ও বিষমুক্ত: এটি সম্পূর্ণ ধুলোবালি ও পোকামাকড়মুক্ত পরিবেশে পণ্য শুকায়, যা বিদেশে রপ্তানির উপযোগী মান নিশ্চিত করে।
- সাশ্রয়ী: যন্ত্রটির দাম মাত্র ২ লাখ টাকার মতো এবং এটি দেশি উপকরণ দিয়েই তৈরি, তাই রক্ষণাবেক্ষণ করা খুব সহজ।
— অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া, উপাচার্য, বাকৃবি
মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও অপচয় রোধ
প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা জানান, দেশে উৎপাদিত ফল-সবজির প্রায় ৩২% এবং মাছের একটি বড় অংশ অপচয় হয়। এই ড্রায়ার ব্যবহার করলে সেই অপচয় অনেক কমে আসবে। প্রতিটি ব্যাচে প্রায় ৩০-৩৫ কেজি পণ্য এখানে শুকানো সম্ভব।
উপকূলীয় এলাকার শুঁটকি উৎপাদনকারীরা এই ড্রায়ার ব্যবহার করে দারুণ সুফল পাচ্ছেন। তারা জানান, আগে মেঘলা আকাশ থাকলে মাছ নষ্ট হয়ে যেত, কিন্তু এখন ড্রায়ারের কারণে আবহাওয়া নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করতে হয় না এবং বিষমুক্ত শুঁটকি তৈরি করা যাচ্ছে।